মার্কিন কর্তৃপক্ষ অস্ত্রের গোপন তথ্য ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়েছে। সিবিএস নিউজ এই তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে বলেছেন। সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জয়েন্ট স্টাফের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষাও করা হয়েছে। প্রায় ৫০ জন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাকে এই পরীক্ষা করা হয়। অন্যান্য সংবাদমাধ্যমও এই খবর দিয়েছে।
ফাঁস হওয়া তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত সম্পর্কে বলা হয়েছে। বিশেষ করে, ইরানের সাথে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মতো অস্ত্রের মজুত কমে গেছে।
এই তথ্য ফাঁস হওয়া ওয়াশিংটনের জন্য খুবই উদ্বেগজনক। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত ও সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ হলে তা শত্রুদের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।
তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো তথ্য ফাঁসের উৎস খুঁজে বের করা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত শুধু সামরিক বাহিনীর নিচু পদের কর্মকর্তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দেওয়া জয়েন্ট স্টাফের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারাও তদন্তের আওতায় আছেন।
পেন্টাগন গোপন সামরিক তথ্যের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কিছু পুরোনো গোপন নথির প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে। এসব নথিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, সামরিক ইউনিট, অস্ত্র এবং অন্যান্য সামরিক সম্পদের অবস্থান ও সক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশটির সামরিক অস্ত্রভান্ডারের উপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ও টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন। যুদ্ধের সপ্তম মাসে এসে এই অস্ত্রের মজুত ও সরবরাহ নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন তথ্য ফাঁসের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। গণমাধ্যমে সামরিক তথ্য ফাঁস রোধে মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষা এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে। গোপন তথ্যের উৎস শনাক্ত করতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে, মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষায় কেউ ব্যর্থ হয়েছে কিনা বা তথ্য ফাঁসের জন্য কাউকে চিহ্নিত করা হয়েছে কিনা তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।



Leave a Reply