যুদ্ধ ইরানকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, ইরানকে দুর্বল করার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সক্ষমতা নিয়ে ইরানের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। একইসঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখতে আরও কয়েক মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তেহরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, ইরানের কট্টরপন্থি সরকার সংঘাত আরও বড় পরিসরে নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে। গোয়েন্দা মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার মতে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে বসতে তেহরান প্রস্তুত, এমন ইঙ্গিত খুব কমই পাওয়া যাচ্ছে।

কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন, অন্তত আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে চাইতে পারে ইরান। তাদের ধারণা, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং উচ্চ জ্বালানি মূল্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিকভাবে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে ইরানও যে যুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে, সেটি স্বীকার করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে অবহিত কয়েকজন কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, ইরানের ধারণা হতে পারে—যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে আসায় ওয়াশিংটন নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানোর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে পারে। নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান এবং হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির সদস্য জশ গটহেইমার বলেন, ‘ইরানিরা মনে করছে, তাদের হাতে সর্বোচ্চ সুবিধা বা চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে।’

সব মিলিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে এমন একটি চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে যুদ্ধের কারণে ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নিজেদের পরাজিত মনে করছে না। বরং ছয় মাসের সংঘাত তেহরানের এই বিশ্বাস আরও জোরালো করেছে যে, তারা বড় ধরনের হামলা সহ্য করেও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *