বিবাহ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ‘যুদ্ধাপরাধ’: ইরান

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি আবাসিক এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে মার্কিন হামলার শিকার হয়েছেন চারজন নিহত এবং ৬৮ জন আহত। নিহতদের মধ্যে ছিল দুই নারী, দুই শিশু। শিশুদের বয়স ছিল ৪ ও ১৬ বছর। ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে পাঁচজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল, তবে পরে তা সংশোধন করে চারজন বলে ঘোষণা দিয়েছে।

হামলাটি ঘটেছে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক এলাকায়, যা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থিত। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, হামলার শিকার ভবনটি একটি আবাসিক বাড়ি, যেখানে পরিবারের সদস্যরা বিয়ের অনুষ্ঠান উদযাপন করছিলেন।

ইরানি রেড ক্রিসেন্টের দাবি, এটি ছিল একটি বেসামরিক পারিবারিক আয়োজন। সেখানে হামলা চালিয়ে নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ায় ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সংস্থাটি এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এর মাধ্যমে তদন্তেরও আহ্বান জানিয়েছে। অভিযোগ, একটি ব্যক্তিগত পারিবারিক অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র হামলার কথা স্বীকার করেনি। তবে বিয়ের অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছিল, এমন অভিযোগের বিষয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স চরম সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি এ দাবির ব্যাপারে ‘অত্যন্ত সন্দিহান’। এছাড়াও বেসামরিক এলাকায় হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিষয়ক সামরিক অভিযানের ধরন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি, হামলার লক্ষ্য এবং নিহতদের পরিচয় নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা নিরসনে স্বাধীন তদন্তের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *