প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ পালন করা হচ্ছে।

দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, কলাম লেখক এবং প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি প্রাণ হারান।
সাইফুর রহমান ১৯৩২ সালের ৬ অক্টোবর তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমার সদর উপজেলার বাহারমর্দন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আব্দুল বাছিত ও তালেবুননেসার তিন সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ।
মৌলভীবাজার সরকারি হাইস্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার পর তিনি ১৯৪৯ সালে দি এইডেড হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৫১ সালে সিলেট মুরারীচাঁদ কলেজ থেকে আইএ সম্পন্ন করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিকম ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত লন্ডনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকালে তিনি দি ইনস্টিটিউট অভ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অভ ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস (আইসিএইডাব্লিউ) থেকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) সনদ অর্জন করেন।
১৯৬২ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে অ্যাডভান্সড ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন এবং আর্থিক ও মুদ্রানীতি ও উন্নয়ন অর্থনীতিতে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত থাকা অবস্থায় তিনি সলিমুল্লাহ হল ছাত্র ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভাষা আন্দোলনের সময় সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং তিনি এক মাস জেল খাটেন। ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসেবে তার জাতীয় রাজনীতির যাত্রা শুরু হয়।
১৯৭৭ সালে তিনি জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দলে যোগ দেন, যা পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে পরিণত হয়। তিনি বিএনপির শুরুর দিকের আহবায়ক কমিটির ১২তম সদস্য ছিলেন। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে তিনি সিলেট-১৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত তিনি প্রথমে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাত করে এরশাদ সামরিক শাসন জারি করলে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় প্রায় সকল নেতার সঙ্গে তিনিও কারাবরণ করেন।
১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি টেকনোক্র্যাট অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে তিনি সিলেট-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ ও সিলেট-৪ আসন থেকে তিনি আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে সিলেট-১ ও মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে জয়লাভ করেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *