পৃথিবীর মানচিত্র বদলাচ্ছে। জাতিসংঘ মহাদেশগুলোর প্রকৃত আয়তন দেখাতে নতুন মানচিত্র তৈরি করছে। এতে আফ্রিকা মহাদেশকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার চেয়ে বড় দেখানো হবে। বাংলাদেশসহ দেড়শতাধিক দেশ এই প্রস্তাব সমর্থন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এর বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, জাতিসংঘের উচিত বর্তমান সংকট নিয়ে কাজ করা, পুরোনো মানচিত্র নিয়ে নয়।
জাতিসংঘ পুরোনো মানচিত্র বদলাতে উদ্যোগী। এতে আফ্রিকার আকার ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার চেয়ে বড় হবে। বাংলাদেশসহ ১৬৪ দেশ এই প্রস্তাবে ভোট দিয়েছে। ৬টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র দেশ যারা এর বিরোধিতা করেছে।
এই নতুন মানচিত্রের নাম ‘ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন’। এটি মহাদেশগুলোর আয়তনকে আরও নির্ভুলভাবে দেখাবে।
পুরোনো মানচিত্র ১৫৬৯ সালে তৈরি মারকেটর প্রজেকশন। এটি ত্রিমাত্রিক পৃথিবীকে দ্বিমাত্রিক মানে দেখায়। এতে উত্তরাঞ্চলের দেশগুলোকে বড় দেখায়। আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার মতো অঞ্চলকে ছোট দেখায়।
বাস্তবে আফ্রিকার আয়তন গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে ১৪ গুণ বড়। কিন্তু প্রচলিত মানচিত্রে তারা প্রায় সমান। তাই জাতিসংঘের এই উদ্যোগকে সব সদস্য দেশ স্বাগত জানিয়েছে।
টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসে বলেছেন, একটি ন্যায্য মানচিত্র বৈশ্বিক ন্যায্যতার শুরু। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য আফ্রিকার আসল আকার জানানো। এটি কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা নয়, বরং প্রতীকী ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন মানচিত্রে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও ওশেনিয়ার আয়তন বাস্তবসম্মত হবে। ফ্রান্স ইতিমধ্যে পুরোনো মানচিত্র বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।



Leave a Reply