যুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় আগস্ট মাসে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেলের রপ্তানি প্রায় ৩৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
তেলবাহী জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ট্যাংকারট্র্যাকার্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ে ওই অঞ্চল থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭.২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল কম রপ্তানি করা হয়েছে।
ট্যাংকারট্র্যাকার্স আরও উল্লেখ করেছে যে, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৮.৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হতো। যুদ্ধ শুরুর আগের সেই স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় আগস্টের রপ্তানি পরিমাণ যথেষ্ট কম ছিল।
তবে রপ্তানি হ্রাসের হার মে মাসের তুলনায় কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। সংস্থাটির দেওয়া উপাত্ত বলছে, মে মাসে যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি প্রায় ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল এবং সেই মাসে প্রতিদিনের ঘাটতি ছিল প্রায় ১২.৪ মিলিয়ন ব্যারেল।
আগস্ট মাসে এই ঘাটতি কমে ৭.২ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে। এর অর্থ হলো, মে মাসের তুলনায় তেলের রপ্তানি পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটলেও তা এখনো যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক অবস্থায় পৌঁছাতে পারেনি।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় এই সামুদ্রিক পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ার পেছনে এই পরিস্থিতিকে মূল কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালীতে চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সমুদ্রপথে পণ্য চলাচলের ওপর।
আগস্টে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রফতানি কমেছে ৩৯%



Leave a Reply