৭ অক্টোবরের হামলার আগে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট

ইসরায়েলে হামাসের হামলার প্রায় ১০ দিন আগে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে হামাস একটি বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজ দাবি করেছে যে নেতানিয়াহু এই সতর্কবার্তা ইসরায়েলের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জানাননি। তিনি কোনো কার্যকর পদক্ষেপও নেননি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ একটি নতুন বইয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায়। বইটির নাম ‘কিডন্যাপড: ৮৪৩ ডেইজ অব অ্যাব্যান্ডনমেন্ট’। সাংবাদিক শ্লোমি এলদার ও রুথ ইউভাল এটি লিখেছেন।

বইটি তৈরিতে ইসরায়েল ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কয়েক ডজন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।

সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ও নেতানিয়াহুর মধ্যে প্রায় ৪৫ মিনিটের ফোনালাপ হয়। এমবিজেড নামে পরিচিত মোহাম্মদ বিন জায়েদ নেতানিয়াহুকে জানান যে হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তিনি আরও সতর্ক করেন যে এই হামলা ব্যাপক রক্তপাত ঘটাতে পারে। এটি পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এই হামলা ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-কেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ ইসরায়েল-আরব সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া দেখে এমবিজেড বিস্মিত হয়েছিলেন।

হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন। নেতানিয়াহু তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে গাজার পরিস্থিতির ওপর জেরুজালেমের নজর আছে।

তিনি আরও বলেছিলেন যে হামাস কোনো পদক্ষেপ নিলে সেটি গাজার বদলে পশ্চিম তীরে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ইসরায়েল যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

তবে কয়েক দিন পরই ইতিহাসের অন্যতম বড় হামলা ঘটে যায়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, হামাসের নেতৃত্বে সশস্ত্র সদস্যরা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে সীমান্ত পেরিয়ে বহুমুখী হামলা চালায়। এতে প্রায় ১ হাজার ২শ’ মানুষ নিহত হন। এদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক ছিলেন।

পাশাপাশি, ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই হামলার পর সংঘাত শুরু হয়। এটি পরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমবিজেড ইয়াহিয়া সিনওয়ারের কাছ থেকেই হামাসের সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে তথ্য পেয়েছিলেন।

২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে বন্দি বিনিময় নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু অগ্রগতি না হওয়ায় সিনওয়ার ক্ষুব্ধ ছিলেন।

আলোচনায় ইসরায়েলি জিম্মিদের বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরাসরি যোগাযোগ এড়াতে ফাতাহর একজন জ্যেষ্ঠ মধ্যস্থতাকারী ‘কোল আইজ’ নামে পরিচিত। তিনি হামাসের পলিটব্যুরোর সদস্য গাজি হামাদের সাথে যোগাযোগ করতেন। হামাদ হিব্রু ভাষাতেও কথা বলতে পারতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *