বাপার প্রশিক্ষণের পরে, ২০,৮০৫ জন মানুষ চাকরি পেয়েছেন।

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ২০,৫৮৫ জন প্রশিক্ষণার্থী সফলভাবে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।

তবে, বাপা এই সংখ্যাকে চূড়ান্ত বলে মনে করছে না। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের তথ্য সংগ্রহ এবং যাচাই করা এখনও চলছে।

বাপার তথ্য অনুসারে, ৭,০০০ জনের বেশি প্রশিক্ষণার্থী প্রাণ গ্রুপের বিভিন্ন শিল্প পার্কে ও প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়েছেন। টি.কে. গ্রুপে ১,১০৪ জন, বনফুল ও কিষোয়ান গ্রুপে ৯১২ জন, আকিজ গ্রুপে ৫৫৬ জন, মেঘনা গ্রুপে ৪০৮ জন এবং হাশেম ফুডসে ২৮৮ জন প্রশিক্ষণার্থী নিযুক্ত হয়েছেন।

অন্যান্য প্রশিক্ষণার্থীরা বাপার অধীনে বিভিন্ন কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।

এই ফলাফলের মধ্যে চাকরি ছাড়াও আত্মকর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র উদ্যোগ এবং অন্যান্য আয়মূলক কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাপা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার পরিকল্পনা করছে। তারা দক্ষ প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়োগ বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা কার্যক্রমে উৎসাহ প্রদান এবং কর্মসংস্থানের তথ্য নিয়মিত যাচাই করবে।

আগস্ট মাস পর্যন্ত, বাপার অধীনে ১,৯১৯টি ব্যাচে মোট ৪৬,০৫৬ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ২৬,০৯৬ জন নারী এবং ১৯,৯৬০ জন পুরুষ।

নারী অংশগ্রহণকারীর হার ৫৬.৬৬ শতাংশ। প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ৫৬ জন প্রতিবন্ধী এবং ৫৫৮ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য রয়েছেন।

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) অধীনে ৩০,৮৬০ জন দক্ষতা মূল্যায়নে অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৮,৮৬৫ জনকে দক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। দক্ষতার হার ৯৩.৫৪ শতাংশ।

তবে, সকল প্রশিক্ষণার্থীর দক্ষতা মূল্যায়ন এখনও শেষ হয়নি। একইভাবে, দক্ষ হিসেবে বিবেচিত সকল প্রশিক্ষণার্থীর কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানের তথ্যও নথিভুক্ত করা হয়নি। তাই, কর্মসংস্থানের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

বাপার এই কার্যক্রমটি ‘অ্যাকসেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন (অ্যাসেট)’ প্রকল্পের অংশ। কারিগরি ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি (টিএসটিপি) এবং শিক্ষানবিশ দ্বৈত-পদ্ধতি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির (এডিটিপি) অধীনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণে শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি বাস্তব কর্মপরিবেশও অন্তর্ভুক্ত।

প্রশিক্ষণ খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বেকিং, খাদ্য সংরক্ষণ, মোড়কজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিক্রয় ও খুচরা বিক্রয়ের মতো বিষয়গুলোতে ফোকাস করে। আকিজ, প্রাণ, হাশেম ফুডস, টি.কে., মেঘনা, ওয়েল ফুডস, রানি ফুড, ফুলকলি, বনফুল, কিষোয়ান, লালমাই এবং দেশবন্ধুসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত আছে।

বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম বলেছেন, ৪৬,০০০ এর বেশি প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা এবং ৯৩.৫৪% এর দক্ষতা অর্জন করা খুবই উৎসাহব্যঞ্জক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *