কোক স্টুডিওর ১৪তম সিজনে প্রকাশিত ‘পাসুরি’ গানটি পাকিস্তানসহ বিশ্বজুড়ে আলোড়ন ফেলেছে। আলি শেঠি ও শে গিলের এই অসাধারণ গানটি ইউটিউবে এক বিলিয়ন ভিউ অতিক্রম করেছে, যা পাকিস্তানের প্রথম মিউজিক ভিডিও হিসেবে ২০২২ সালে রেকর্ড গড়ে নেয়।
সপ্তাহান্তে কোক স্টুডিওর ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি পোস্টে এই সাফল্যের কথা জানানো হয়েছে। পোস্টে বলা হয়েছে, যারা গানটি শুনেছেন, কণ্ঠে কণ্ঠে গানটি গিয়েছেন এবং নিজেদের মতো করে গ্রহণ করেছেন—তাদের সবার জন্য ধন্যবাদ।
‘পাসুরি’ গানটি কোক স্টুডিওর ১৪তম সিজনে প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে আলি শেঠি ও শে গিল কণ্ঠ দিয়েছিলেন। গানটি প্রকাশের পর থেকেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল এবং চার বছর সাত মাসের মধ্যে ইউটিউবে ১০০ কোটি ভিউ অতিক্রম করেছিল।
এই সাফল্য অনেকটা প্রত্যাশিত ছিল, কারণ গানটি প্রকাশের পর থেকেই পাকিস্তানের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। স্পটিফাইয়েও গানটি রেকর্ড করেছিল, ২০২২ সালে এটি ছিল সবচেয়ে বেশি স্ট্রিম হওয়া পাকিস্তানি গান। এখনও গানটি আলি শেঠি ও শে গিলের জন্য সবচেয়ে বেশি স্ট্রিম হওয়া গান, যেখানে প্ল্যাটফর্মটিতে গানটির স্ট্রিম সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি ৫০ লাখ।
২০২২ সালে গানের বিভাগে গুগলে সবচেয়ে বেশি খোঁজা শব্দগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ‘পাসুরি’। একই বছর গুগলের ‘Hum to Search’ ফিচারের মাধ্যমে খোঁজা গানগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল এটি। এই মাইলফলক উদ্যাপন করতে আলি শেঠি, শে গিল এবং সংগীত প্রযোজক জুলফিকার খান (জুলফি) ও আবদুল্লাহ সিদ্দিকিকে নিয়ে একটি রিলও প্রকাশ করেছে কোক স্টুডিও।
কোকা-কোলার আঞ্চলিক মহাব্যবস্থাপক সামি ওয়াহিদ বলেছেন, প্রায় দুই দশক ধরে কোক স্টুডিও পাকিস্তানের সংগীত, ভাষা ও গল্প বিশ্বজুড়ে মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। ‘পাসুরি’ দেখিয়েছে, নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থেকেও একটি গান কীভাবে দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।
‘পাসুরি’ গানটি প্রকাশের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছিল। পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে গানটির অসংখ্য কাভার ভার্সন তৈরি হয়েছিল। এমনকি উপমহাদেশের বাইরেও গানটি নতুন করে পরিবেশিত হয়েছিল।
ডিজনির জনপ্রিয় সিরিজ ‘মিস মার্ভেল’-এর সাউন্ডট্র্যাকেও জায়গা করে নেয় ‘পাসুরি’। পাকিস্তানি সংস্কৃতির নানা উপাদানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল ওই সিরিজে। এর প্রধান চরিত্রও একজন পাকিস্তানি-আমেরিকান তরুণী।
‘পাসুরি’র আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তার আরেকটি বড় প্রমাণ হলো ইউটিউবের ভিউয়ের হিসাব। ‘পাসুরি’র মোট ইউটিউব ভিউয়ের ৯০ শতাংশেরও বেশি এসেছিল পাকিস্তানের বাইরে থেকে। বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে গানটির অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিও দেখা হয়েছিল।
‘পাসুরি’র জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে গানটির নতুন সংস্করণও তৈরি হয়েছিল। কোক স্টুডিও আফ্রিকা গানটির একটি রিমিক্স প্রকাশ করেছিল, যেখানে আলি শেঠির সঙ্গে কাজ করেছিলেন নাইজেরিয়ার শিল্পী মারওয়ান মুসা ও রিকাডো ব্যাংকস। নাইজেরিয়ান আফ্রোবিটসের সঙ্গে পাকিস্তানি সংগীতের মিশেলে তৈরি ওই সংস্করণও গানটির আন্তর্জাতিক আবেদন আরও বাড়িয়ে দেয়।
এদিকে ‘পাসুরি’র জনপ্রিয়তার পর বলিউডেও গানটির নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করা হয়। ভারতীয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠে গানটির নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হলে পাকিস্তানসহ অনেক শ্রোতার মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে নানা বিতর্ক ও সংস্করণ তৈরি হওয়ার মধ্যেও মূল ‘পাসুরি’র জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। বরং ইউটিউবে ১০০ কোটি ভিউয়ের মাইলফলক ছুঁয়ে গানটি এখন পাকিস্তানি সংগীতের আন্তর্জাতিক সাফল্যের অন্যতম বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে।






Leave a Reply