স্থানীয় নির্বাচন: দলীয় প্রতীক-পোস্টার বাদ

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক বা পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। প্রার্থীরা তাদের প্রচারকাজে ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল এবং বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন।

স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি জারি করা সমন্বিত আচরণ বিধিমালা, ২০২৬-এ এসব বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এই নতুন বিধিমালার কারণে এখন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকারের ভোটগুলোর আচরণবিধিতে মিল তৈরি হলো।

নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কিংবা তাদের সমর্থকরা কোনোভাবেই পোস্টার লাগাতে পারবেন না। তবে সাদা-কালো ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট এবং হ্যান্ডবিলের পাশাপাশি শর্ত সাপেক্ষে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিলবোর্ডের সুনির্দিষ্ট মাপ ঠিক করে দিয়েছে কমিশন, যেখানে সর্বোচ্চ আকার হবে ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট। সিটি করপোরেশন এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিটি ওয়ার্ডে কেবল একটি করে বিলবোর্ড টাঙানো যাবে।

অন্য দিকে, উপজেলা নির্বাচনে পুরো উপজেলায় সর্বোচ্চ ২০টি এবং জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীর ছবি ও প্রতীক ছাড়া প্রচারণায় অন্য কারও ছবি দেওয়া যাবে না এবং যেকোনো ধরনের পলিথিন বা পিভিসি সামগ্রীর ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রচার চালানোর সময় এবং মাইক ব্যবহারের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে দুপুর দুইটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মাইক বাজানো গেলেও এখন থেকে দুপুর ১২টা থেকে শুরু করে সূর্য ডোবার আগেই মাইকিং বন্ধ করতে হবে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইকের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আচরণবিধি ভাঙলে আগে ১০ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানার বিধান থাকলেও নতুন নীতিমালায় তা বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জেলের সাজা বহাল রাখা হয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব বুঝে কমিশন চাইলে যেকোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা সরাসরি বাতিলও করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *