ফের ফিফা সভাপতি পদে নির্বাচনের ঘোষণা ইনফান্তিনোর

সব পদত্যাগের দাবিকে পাশ কাটিয়ে ২০২৭ সালের নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফিফার একজন মুখপাত্র সম্প্রতি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, চলমান সব বিতর্ক এবং সমালোচনার উপযুক্ত জবাব দিতে সঠিক সময় ও স্থানের প্রতীক্ষায় আছেন তিনি। পোল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ চলাকালীন সাংবাদিকদের এই কথা জানান ইনফান্তিনো।

গত জুলাই মাসে বিশ্বকাপ এবং অন্যান্য ফিফা আসরের ২০ শতাংশ মালিকানা কোনো বেসরকারি কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের বড় একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলের তুমুল সমালোচনা ও প্রবল প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় ফিফা।

এই ঘটনার পরেই মূলত ইনফান্তিনোর ওপর ক্ষোভের পারদ অনেক উঁচুতে উঠে যায়। উয়েফা, এএফসি এবং কনকাকাফ-এর মতো শক্তিশালী ফুটবল কনফেডারেশনগুলো সরাসরি তাঁর পদত্যাগের জোরালো দাবি জানায়।

চারপাশ থেকে এত চাপ আসার পরও ৫৬ বছর বয়সী এই ফিফা সভাপতি এখনো আফ্রিকান এবং দক্ষিণ আমেরিকান কনফেডারেশনগুলোর সমর্থন ধরে রাখতে পেরেছেন বলে জানা যাচ্ছে। আর ঠিক এই কারণেই আসন্ন ফিফা সভাপতি নির্বাচনে আবারও লড়াই করার ব্যাপারে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় আছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

গত রোববার ফিফার একজন মুখপাত্র পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, গত এপ্রিলে ইনফান্তিনো পুনরায় নির্বাচন করার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাতে কোনো ধরনের পরিবর্তন আসেনি। সে অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসে তিনি আবারও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

এর আগে শনিবার পোল্যান্ডে চলমান অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ উপভোগ করতে মাঠে উপস্থিত হন ফিফা প্রেসিডেন্ট। তবে সাম্প্রতিক ছয় সপ্তাহের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে সংবাদকর্মীরা প্রশ্ন করলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ইনফান্তিনো। এই বিষয়ে জানানোর মতো অনেক তথ্য তার হাতে রয়েছে, তবে উপযুক্ত সময় এবং উপযুক্ত জায়গাতেই তিনি নীরবতা ভাঙবেন বলে সাফ জানিয়ে দেন ফিফা সভাপতি।

ইনফান্তিনো নিজে বলেন, বলার মতো অনেক কথা আমার জমে আছে, কিন্তু মুখ খুলতে হলে সঠিক সময় ও জায়গার প্রয়োজন হয়। তবে সেই সময়টা আজ নয়, আর এই জায়গাটাও সেটা নয়। কারণ আজ আমরা সবাই এখানে কেবল ফুটবল খেলা উপভোগ করতেই একত্র হয়েছি।

অন্য দিকে ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রভাবশালী কিছু কনফেডারেশনের প্রকাশ্য বিরোধিতার কারণে ফিফা সভাপতির আসনটি কিছুটা নড়েবড়ে হয়ে গেলেও, এখন পর্যন্ত আগামী নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিপক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *