প্রেসিডেন্টের সাথে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্যমূলক দেখা করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে এই বৈঠক সম্পন্ন হয়।
সাক্ষাৎকার চলাকালে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং জনগণের মধ্যকার সুসম্পর্কের কারণে বাংলাদেশ ও ইরানের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফেরদৌসি, শেখ সাদি, হাফিজ এবং জালাল উদ্দিন রুমির মতো বিখ্যাত পারস্য কবি ও পণ্ডিতদের সাহিত্যকর্ম এই অঞ্চলের মানুষের চেতনা ও সংস্কৃতিকে ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করেছে। এ সময় তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচনায় ইরানি জনমানুষের প্রতি যে মমতা ফুটে উঠেছে, সেটির কথাও তুলে ধরেন।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রতি গভীর দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি জানান, এই সংঘর্ষের কারণে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো মারাত্মক জ্বালানি সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি আলাপ-আলোচনা, সমঝোতা এবং কূটনৈতিক পথ অবলম্বনের মাধ্যমে বিরোধ নিরসনের বিষয়ে বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থানের কথা পুনরায় জানান।
এ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইরানে প্রাণ losing ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করে এবং আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে দেশটির ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। পাশাপাশি, বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মুসলিম উম্মাহর সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে ইরানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষিতে ইরানের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে একটি অভিনন্দনপত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে হস্তান্তর করেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের উপস্থিতির বিষয়টি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
তিনি আশা ব্যক্ত করেন যে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশ ও ইরান বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *