জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা খলিলুর রহমানের

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন খলিলুর রহমান। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রতি তার সমর্থন ও সহযোগিতা স্বীকার করেন।

৯ সেপ্টেম্বর বুধবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সূচনা বক্তব্যে খলিলুর রহমান বলেন, তিনি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর আস্থা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ। তিনি সততা, নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনেরও অঙ্গীকার করেন। তিনি পূর্বসূরি আনালেনা বায়েরবককে ধন্যবাদ জানান এবং চ্যালেঞ্জিং একটি সময়ে সাধারণ পরিষদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তার অবদানের প্রশংসা করেন।

খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘ আট দশকের বেশি সময় ধরে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এটি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছে এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছে। তবে সংঘাত, মানবিক সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ায় বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমছে। তিনি বলেন, এ আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংলাপ, সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেন।

এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর পরিচালনা: সবার জন্য কার্যকর এক জাতিসংঘ।’ খলিলুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য ছয়টি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছেন। এগুলো হলো— শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), জলবায়ু ও পরিবেশ, মানবাধিকার ও মানবিক সুরক্ষা, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল রূপান্তর এবং জাতিসংঘের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার।

মানবাধিকার ও মানবিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কথাও উল্লেখ করেন।

এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানো, ডিজিটাল বৈষম্য কমানো, জাতিসংঘের আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

খলিলুর রহমান জানান, তার দপ্তরে বৈচিত্র্য, ভৌগোলিক ভারসাম্য ও লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে মন্ত্রিসভার ৬০ শতাংশ সদস্য নারী।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম এবং বিশ্বের মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারে— এমন একটি জাতিসংঘ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *