জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা আর কারও অধীনতা মেনে নেব না। বাংলাদেশ নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী চলবে। এই অধ্যায় চিরতরে বন্ধ হয়েছে। আমাদের শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমাদের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মোকাবিলা করতে হবে। আমাদের আলোচনায় বসতে হবে, প্রয়োজনে লড়াইও করতে হবে। তবে সম্পর্ক হতে হবে সমানে সমান।
তিনি আরও বলেন, আমরা ভারতের সঙ্গে সৎ ও সুসম্পর্ক চাই। তবে প্রকৃত প্রতিবেশী হতে হলে উভয় পক্ষকেই সদিচ্ছা দেখাতে হবে।
একাত্তর পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, অতীতে জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে একদলীয় বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল। রক্ষীবাহিনীর হাতে অনেক মানুষ নিহত হয়েছে। তখন রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন ও দুর্ভিক্ষের কারণে মানুষ না খেয়ে মারা গেছে।
তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার বছরই পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটে। সেই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা ছিল তা আজও অজানা। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আলোর মুখ দেখেনি। এতে সেনাবাহিনী ও তৎকালীন বিডিআর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পলায়নকারী নেতাদের বিষয়ে তিনি বলেন, চোর ও লুটেরারা পালায়। সৎ মানুষ পালায় না। যারা পালিয়ে গিয়ে বারবার অস্থিরতা তৈরির হুমকি দিচ্ছে, তাদের উদ্দেশে বলছি—পালিয়ে গেলেন কেন? দেশপ্রেমিক হলে মাটি কামড়ে দেশে থাকতেন। অপরাধ না করলে নির্দোষ প্রমাণ করতেন। সৎ মানুষ জেলে যেতে বা ফাঁসির মুখোমুখি হতে ভয় পায় না।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণহত্যার বিচার এখন ধীরগতিতে চলছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বিচারকার্য যেভাবে এগিয়েছিল, তা এখন দেখা যাচ্ছে না।
শিল্প খাত নিয়ে তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে গার্মেন্টস উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে। এতে বড় বিপর্যয় আসতে পারে। সরকারকে শিল্প খাত রক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি সংসদে পাস হওয়া তিনটি আইনের বিরোধিতা করেন। এর প্রতিবাদে তার দল ওয়াকআউট করেছে। তিনি বলেন, এসব আইন জনগণের উপকারে আসবে না, বরং সরকারকে সুবিধা দেবে।
তিনি আরও বলেন, পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইনটি কোরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।


Leave a Reply