উজানের ঢলে বাড়ছে পদ্মার পানি, প্লাবিত নিমাঞ্চল

পদ্মা নদীর পানি উজানের ঢলে বাড়তে থাকায় রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে অনেক এলাকায়, যেখানে দুর্গতরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। কিছু এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এদিকে, মুন্সিগঞ্জের কয়েকটি এলাকায় পদ্মার তীব্র স্রোতে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে, যা নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

গত কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভারত ও নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মা অববাহিকায় দ্রুত পানি বাড়ছে। এরই মধ্যে রাজশাহীর দক্ষিণের চর খিদিরপুর, খানপুরসহ বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীভাঙনের শঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটছেন তারা। বসতভিটা হারালে কোথায় যাবেন, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন অনেকে।

এক বাসিন্দা বলেন, নদী ভেঙে গেলে ঘরবাড়ি আর থাকবে না। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কোথায় থাকব জানি না। পানির কারণে ঘরে থাকা যাচ্ছে না, সাপসহ বিভিন্ন প্রাণীর ভয়ও আছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জলমগ্ন পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, গত দুই-তিন দিনে পানি বৃদ্ধির পরিমাণ বেশি। আগামী এক-দুই দিন পানি আরও বাড়তে পারে। তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের অন্তত আড়াই হাজার পরিবার গত তিন দিন ধরে পানিবন্দী। এসব এলাকায় রান্না করা খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় ৫৭ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে পানির কারণে, এবং কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, অনেক বাড়িতে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। গবাদিপশু নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হচ্ছে তাদের। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

এক বাসিন্দা বলেন, বাড়িতে যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। গরু-বাছুর নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। ঘরে এক গলা পানি। পুরো গ্রামে কোথাও শুকনো জায়গা নেই।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের বেশ কিছু বসতবাড়ি ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে পদ্মার পানির কারণে। পানি বাড়তে থাকায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছাড়ছেন অনেকে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বাচ্চাদের চলাফেরা খুব কষ্টকর হয়ে গেছে। স্কুলে যেতে পারছে না, স্কুলেও পানি উঠেছে। বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাচ্ছি। গরু-বাছুর, ছাগলসহ সবকিছু পানিতে ডুবে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, মুন্সিগঞ্জেও বেড়েছে পদ্মার পানি। নদীর তীব্র স্রোতে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার হাসাইল, মুন্সিগঞ্জ সদরের শিলাইসহ নদী তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *