প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ঘোষণা করেছেন যে, যথাযথ প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করা পর্যন্ত কোনো শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া হবে না।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ বিষয়ক খুলনা বিভাগীয় প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন।
ববি হাজ্জাজ উল্লেখ করেন, পূর্বে শিক্ষকরা নিয়োগের পরপরই সরাসরি ক্লাসে ক্লাস নেওয়া শুরু করতেন এবং পরবর্তীতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হতো। তবে বর্তমানে সেই পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন না করা পর্যন্ত কোনো শিক্ষকই পাঠদানে নিয়োজিত হতে পারবেন না।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষা খাতের মূল লক্ষ্য ছিল অবকাঠামোগত উন্নয়ন। বাজেটের বরাদ্দ কতটুকু ব্যবহৃত হলো বা আর্থিক বছর শেষে ব্যয় কত ছিল, তা দিয়েই সাফল্য পরিমাপ করা হতো। কিন্তু এখন সেই পুরনো ধারণা বদলে ফেলা হয়েছে; এখন শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের ওপর ভিত্তি করেই সাফল্যের মানদণ্ড নির্ধারিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামনের দিনগুলোতে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হবে শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়া। শিক্ষার্থী কতটুকু শিখতে পারছে, তার ওপর ভিত্তি করেই শিক্ষক, ডিপিওসহ সংশ্লিষ্ট সকল স্তরের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করা হবে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, কেবল ভবন বা অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সফলতা এবং প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূলত শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতির মাধ্যমেই যাচাই করা হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (উন্নয়ন) মো. মতিয়ার রহমান, যশোরের পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (উপবৃত্তি) মো. মাসুদ হোসেন।
প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করে শিক্ষক হিসেবে ক্লাসে যাওয়া সম্ভব নয়: ববি হাজ্জাজ



Leave a Reply